০১:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাতক্ষীরা পৌরসভায় বিএনপির টিকিট কার হাতে: পুরোনো ভোটের অঙ্কে নতুন সমীকরণ

রিপোর্টার শাহিনুর ইসলাম
  • Update Time : ১০:০১:৪৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ১৩ Time View

​বিশেষ প্রতিনিধি: স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সাতক্ষীরা পৌরসভায় বিএনপির দলীয় মনোনয়ন কার হাতে উঠছে, তা নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর তৎপরতা শুরু হয়েছে। সম্ভাব্য প্রার্থী বাছাইয়ে দলীয় আনুগত্যের পাশাপাশি ব্যক্তিগত ভোটব্যাংক, সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা এবং সাধারণ ভোটারের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগকে এবার বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
​গত দুই নির্বাচনের ভোটের তুলনামূলক চিত্র
​সাতক্ষীরা পৌরসভার বিগত দুটি নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণ করলে প্রার্থীদের শক্তিমত্তা ও ভোটের গতিপ্রকৃতি স্পষ্ট হয়:
প্রার্থীরাজনৈতিক পরিচয়২০১৫ সালের ভোট২০২১ সালের ভোটভোটের ব্যবধান
তাসকিন আহমেদ চিশতিবিএনপি মনোনীত১৬,৪৭০২৫,০৮৮+৮,৬১৮
নাসিম ফারুক খান মিঠুস্বতন্ত্র১২,৫৩২১৩,২২১+৬৮৯
শেখ আজহার হোসেনজাতীয় পার্টি১২,৮৭৩——
শেখ নাসেরুল হকআওয়ামী লীগ—১৩,০৫০—
মো. নুরুল হুদাস্বতন্ত্র (জামায়াত সমর্থিত)—২,৮৮৮—
তথ্যসূত্র: স্থানীয় সরকার নির্বাচন ২০১৫ ও ২০২১ (সাতক্ষীরা পৌরসভা)
​মিঠুর ‘ব্যক্তিগত ভোট’ ও মনোনয়নের জোর আলোচনা
​মনোনয়ন দৌড়ে অন্যতম আলোচিত মুখ নাসিম ফারুক খান মিঠু। কোনো বড় রাজনৈতিক দলের প্রাতিষ্ঠানিক প্রতীক ছাড়া কেবল স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে টানা দুই নির্বাচনে ১২ হাজারের বেশি ভোট পাওয়া তাঁর বড় শক্তি। ২০১৫ সালে ১২ হাজার ৫৩২ এবং ২০২১ সালে ১৩ হাজার ২২১ ভোট পেয়ে তিনি প্রমাণ করেছেন পৌর এলাকায় তাঁর একটি নিজস্ব ও স্থায়ী ভোটভিত্তি রয়েছে। তবে অতীত নির্বাচনের এই ভোট বর্তমান পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে কতটুকু তাঁর পক্ষে থাকবে, সেটিও পর্যালোচনার বিষয়।
​আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির অনুপস্থিত ভোটের গন্তব্য
​২০১৫ সালে জাতীয় পার্টির শেখ আজহার হোসেনের পাওয়া ১২ হাজার ৮৭৩ ভোট পরবর্তী ২০২১ নির্বাচনে কোন বাক্সে গেছে, তা স্পষ্ট নয়।
​একইভাবে ২০২১ সালে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর পাওয়া ১৩ হাজার ৫০ ভোট বর্তমান পরিস্থিতিতে কোনো একক দলের স্থায়ী ভোটব্যাংক হিসেবে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই।
​স্থানীয়ভাবে জামায়াতের ১২-সাড়ে ১২ হাজার এবং বিএনপির নিজস্ব ১০-১১ হাজার ভোটের আনুমানিক কথা বলা হলেও এর কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি নেই।
​চিশতির ভোটবৃদ্ধি ও জাতীয় নির্বাচন ঘিরে বিতর্ক
​২০২১ সালে তাসকিন আহমেদ চিশতির ভোট একলাফে ২৫ হাজার ছাড়িয়ে যাওয়ার পেছনে দলমত নির্বিশেষে কৌশলগত সমর্থনের ভূমিকা ছিল বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন। তবে সাম্প্রতিক জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাতক্ষীরা-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী মো. আব্দুর রউফের পক্ষে নির্বাচনী মাঠে তাসকিন চিশতি ও তাঁর সমর্থকদের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এর আগে আসনটিতে তিনি নিজেও দলীয় মনোনয়ন দাবি করেছিলেন।
​মনোনয়ন নির্ধারণে যেসব বিষয় প্রাধান্য পেতে পারে
​দলীয় সাংগঠনিক শক্তির বাইরে প্রার্থীর ব্যক্তিগত ভোট টানার সক্ষমতা।
​অরাজনৈতিক ও ভাসমান সাধারণ ভোটারের কাছে প্রার্থীর সামাজিক ভাবমূর্তি।
​আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির সাবেক সমর্থকদের মনস্তাত্ত্বিক অবস্থান কোন দিকে যাবে, তা অনুধাবন করা।
​অতীতের পরিসংখ্যান রাজনৈতিক শক্তির ধারণা দিলেও পরিবর্তিত সমীকরণে দলীয় প্রতীক কার হাতে উঠছে, সে সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত নির্ভর করছে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

সাতক্ষীরা পৌরসভায় বিএনপির টিকিট কার হাতে: পুরোনো ভোটের অঙ্কে নতুন সমীকরণ

Update Time : ১০:০১:৪৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

​বিশেষ প্রতিনিধি: স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সাতক্ষীরা পৌরসভায় বিএনপির দলীয় মনোনয়ন কার হাতে উঠছে, তা নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর তৎপরতা শুরু হয়েছে। সম্ভাব্য প্রার্থী বাছাইয়ে দলীয় আনুগত্যের পাশাপাশি ব্যক্তিগত ভোটব্যাংক, সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা এবং সাধারণ ভোটারের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগকে এবার বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
​গত দুই নির্বাচনের ভোটের তুলনামূলক চিত্র
​সাতক্ষীরা পৌরসভার বিগত দুটি নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণ করলে প্রার্থীদের শক্তিমত্তা ও ভোটের গতিপ্রকৃতি স্পষ্ট হয়:
প্রার্থীরাজনৈতিক পরিচয়২০১৫ সালের ভোট২০২১ সালের ভোটভোটের ব্যবধান
তাসকিন আহমেদ চিশতিবিএনপি মনোনীত১৬,৪৭০২৫,০৮৮+৮,৬১৮
নাসিম ফারুক খান মিঠুস্বতন্ত্র১২,৫৩২১৩,২২১+৬৮৯
শেখ আজহার হোসেনজাতীয় পার্টি১২,৮৭৩——
শেখ নাসেরুল হকআওয়ামী লীগ—১৩,০৫০—
মো. নুরুল হুদাস্বতন্ত্র (জামায়াত সমর্থিত)—২,৮৮৮—
তথ্যসূত্র: স্থানীয় সরকার নির্বাচন ২০১৫ ও ২০২১ (সাতক্ষীরা পৌরসভা)
​মিঠুর ‘ব্যক্তিগত ভোট’ ও মনোনয়নের জোর আলোচনা
​মনোনয়ন দৌড়ে অন্যতম আলোচিত মুখ নাসিম ফারুক খান মিঠু। কোনো বড় রাজনৈতিক দলের প্রাতিষ্ঠানিক প্রতীক ছাড়া কেবল স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে টানা দুই নির্বাচনে ১২ হাজারের বেশি ভোট পাওয়া তাঁর বড় শক্তি। ২০১৫ সালে ১২ হাজার ৫৩২ এবং ২০২১ সালে ১৩ হাজার ২২১ ভোট পেয়ে তিনি প্রমাণ করেছেন পৌর এলাকায় তাঁর একটি নিজস্ব ও স্থায়ী ভোটভিত্তি রয়েছে। তবে অতীত নির্বাচনের এই ভোট বর্তমান পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে কতটুকু তাঁর পক্ষে থাকবে, সেটিও পর্যালোচনার বিষয়।
​আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির অনুপস্থিত ভোটের গন্তব্য
​২০১৫ সালে জাতীয় পার্টির শেখ আজহার হোসেনের পাওয়া ১২ হাজার ৮৭৩ ভোট পরবর্তী ২০২১ নির্বাচনে কোন বাক্সে গেছে, তা স্পষ্ট নয়।
​একইভাবে ২০২১ সালে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর পাওয়া ১৩ হাজার ৫০ ভোট বর্তমান পরিস্থিতিতে কোনো একক দলের স্থায়ী ভোটব্যাংক হিসেবে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই।
​স্থানীয়ভাবে জামায়াতের ১২-সাড়ে ১২ হাজার এবং বিএনপির নিজস্ব ১০-১১ হাজার ভোটের আনুমানিক কথা বলা হলেও এর কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি নেই।
​চিশতির ভোটবৃদ্ধি ও জাতীয় নির্বাচন ঘিরে বিতর্ক
​২০২১ সালে তাসকিন আহমেদ চিশতির ভোট একলাফে ২৫ হাজার ছাড়িয়ে যাওয়ার পেছনে দলমত নির্বিশেষে কৌশলগত সমর্থনের ভূমিকা ছিল বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন। তবে সাম্প্রতিক জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাতক্ষীরা-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী মো. আব্দুর রউফের পক্ষে নির্বাচনী মাঠে তাসকিন চিশতি ও তাঁর সমর্থকদের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এর আগে আসনটিতে তিনি নিজেও দলীয় মনোনয়ন দাবি করেছিলেন।
​মনোনয়ন নির্ধারণে যেসব বিষয় প্রাধান্য পেতে পারে
​দলীয় সাংগঠনিক শক্তির বাইরে প্রার্থীর ব্যক্তিগত ভোট টানার সক্ষমতা।
​অরাজনৈতিক ও ভাসমান সাধারণ ভোটারের কাছে প্রার্থীর সামাজিক ভাবমূর্তি।
​আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির সাবেক সমর্থকদের মনস্তাত্ত্বিক অবস্থান কোন দিকে যাবে, তা অনুধাবন করা।
​অতীতের পরিসংখ্যান রাজনৈতিক শক্তির ধারণা দিলেও পরিবর্তিত সমীকরণে দলীয় প্রতীক কার হাতে উঠছে, সে সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত নির্ভর করছে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর।