বিদায়বেলায় অশ্রুসিক্ত মুসল্লীরা: ৪ দশকের দায়িত্ব শেষে কুলাউড়ার ইমামকে রাজকীয় বিদায়
- Update Time : ০৫:৩৯:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৫ Time View

কুলাউড়া (মৌলভীবাজার): জেলা প্রতিনিধি : রাশেদ আহমদ
দীর্ঘ প্রায় চার দশক (৪৮ বছর) নিষ্ঠা, সততা ও সুদৃঢ় সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন শেষে প্রিয় ইমামকে চোখের জলে অশ্রুসিক্ত রাজকীয় সংবর্ধনায় বিদায় জানালেন মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার প্রতাবী জামে মসজিদের মুসল্লী ও স্থানীয় গ্রামবাসী। একজন আদর্শিক ধর্মীয় অভিভাবককে হারিয়ে এলাকা জুড়ে বিরাজ করছে এক আবেগঘন পরিবেশ।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) প্রতাবী জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানটি রূপ নেয় সর্বস্তরের মানুষের মিলনমেলায়। সংবর্ধিত প্রিয় ইমাম হযরত মাওলানা (ইমামের নাম) দীর্ঘ সময় ধরে এই মসজিদে শুধু ইমামতিই করেননি, বরং এলাকার মানুষের সুখ-দুঃখে ছায়ার মতো পাশে থেকেছেন।
মসজিদ কমিটি ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় চার যুগ ধরে প্রতাবী জামে মসজিদে অত্যন্ত সুনামের সাথে সেবা দিয়ে এসেছেন এই বিদায়ী ইমাম। তাঁর সুন্দর চরিত্র, প্রাঞ্জল ওয়াজ-নসিহত এবং সর্বস্তরের মানুষের সাথে হিতাকাঙ্ক্ষী আচরণের কারণে তিনি ছিলেন সর্বজনশ্রদ্ধেয়।
বিদায়বেলায় স্থানীয় ঐতিহ্য ও ভালোবাসার গভীর বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়ে প্রিয় ইমামকে রাজকীয় সাজে সুসজ্জিত এক বিশেষ বাহনে চড়িয়ে পুরো এলাকা ঘোরানো হয়। এ সময় রাস্তার দু’পাশে দাঁড়িয়ে বয়োবৃদ্ধ থেকে শুরু করে ছোট ছোট শিশুরা হাত নেড়ে তাঁকে বিদায় জানান। অনেক মুসল্লীকে দেখা যায় অশ্রুসজল চোখে তাঁর হাত চেপে ধরে দোয়ার আরজি জানাতে।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে মসজিদ পরিচালনা কমিটির নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, “হুজুর কেবল আমাদের মসজিদের ইমাম ছিলেন না, তিনি ছিলেন আমাদের এলাকার আত্মিক অভিভাবক। চার দশকের এই সম্পর্ক আমরা কখনোই ভুলব না।”
অনুষ্ঠান শেষে বিদায়ী ইমামের হাতে সম্মাননা স্মারক, হাদিয়া ও প্রীতি উপহার তুলে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে তিনি সমগ্র বিশ্ব মুসলিম উম্মাহ এবং প্রতাবী গ্রামবাসীর ইহকাল ও পরকালের সমৃদ্ধি কামনা করে আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করেন। অশ্রুসিক্ত মোনাজাতের মধ্য দিয়ে সমাপ্তি ঘটে এক অবিস্মরণীয় বিদায়ি অধ্যায়ের।



















